অন-পেজ এসইও এর খুটিনাটি

What Is On Page SEO

অনপেজ এসইও কি?

অন-পেজ এসইও (যা “অন-সাইট” হিসেবেও পরিচিত) হচ্ছে এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে কেনো একটি ওয়েবসাইটের যে কোন একটি পেজকে অপটিমাইজ করে অনেক বেশি ভিজিটর অথবা ট্রাফিক পাওয়ার সিস্টেম। আরো সহজভাবে বলতে গেলে ধরেন আপনি একটি সুপার শপ দিলেন। ওই সুপার শপের ভেতরের যত মালামাল আছে প্রতিটি মালালাম নিয়ম করে সাজিয়ে রাখাই হলো অনপেজ।

এসইওতে অন-পেজ এসইও এর গুরুত্ত কতটুকু?

অন-পেজ এসইও
Importance of On-Page SEO

এসইওতে অন-পেজ হচ্ছে সবচাইতে গুরুত্তপূর্ণ অংশ। আমাদের ওয়েবসাইটের আসল উপাদান হচ্ছে কন্টেন্ট। একজন ইউজার একটি ওয়েবসাইটের ভেতর যত ভালো এবং গুছানো কন্টেন্ট  পায় সে তত বেশিবার ওই ওয়েবসাইটের ভেতর ভিজিট করবে। খুব সহজভাবে বলতে গেলে আপনি সবাইকে জানালেন যে আপনার সুপার শপের মধ্যে ভালো মানের বিদেশী চকলেট পাওয়া যায়, কিন্তু কাস্টমার এসে দেখলো যে ভালো মানের কোন বিদেশী চকলেট নেই এবং শপের ভেতরে সব কিছুই এলোমেলোভাবে সাজানো, যার কারনে আপনার কাস্টমারকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসটি পেতে অনেক সময় ব্যায় করতে হচ্ছে। এতে করে আপনার শপের সঠিক কাস্টমারগগুলোকে হারাবেন। ঠিক একইভাবে আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলিও ঠিক মতো সাজানো না থাকলে আপনি সঠিক ভিজিটর হারাবেন। আর এই সঠিকভাবে কন্টেট, ছবি সাজানোর জন্য সবচাইতে গুরুত্তপূর্ণ অংশ হলো এই অনপেজ এসইও এর বিভিন্ন উপাদান এবং টেকনিক। অতএব অনপেজ একটি ওয়েবসাইটের এসইও এর জন্য কতটা গুরুত্তপূর্ণ সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

অনপেইজের গুরুত্তপূর্ণ পার্টগুলো কি কি??

অন-পেজ এসইও
On page seo checklist

অন-পেজের অনেকগুলো পার্ট রয়েছে। এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্তপূর্ণ পার্টগুলো আমি নিচে উল্লেখ করছিঃ

টাইটেল (Title):

টাইটেলের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খুবই গুরুত্তসহকারে মানতে হবে। সেগুলো হলো-

১. টাইটেলের সর্বমোট ক্যারেকটার ৫০-৬০ শব্দের বেশি না হওয়া, এর বেশি হলে এক্ষেত্রে ইলিপ্সিস (Ellipsis) হবার সম্ভাবনা থাকে। ইলিপ্সিস মানে গুগলের সার্চ পেজে পুরো টাইটেলটা দেখা না গিয়ে টাইটেলের শেষের দিকটা ডট ডট দেখাবে;

২. Exact match ভাবে কিওয়ার্ড টিকে হুবুহু টাইটেলের মধ্যে রাখতে হবে;

৩. কিওয়ার্ড টিকে অবশ্যই টাইটেলের শুরুতে রাখতে হবে;

৪. টাইটেল অবশ্যই ১০০% meaningful হতে হবে। টাইটেল meaningful না হলে ভিজিটররা সাইটে ভিজিট করতে চায় না;

৫. টাইটেলের মধ্যে Separator হিসেবে ড্যাস (-) অথবা পাইপ (।) ব্যবহার করাই সবচাইতে ভালো প্র্যাকটিস;

৬. টাইটেলের মধ্যে is, of, to, a, an এই ধরনের শব্দগুলো কে small letter এ রাখা যাবে কিন্তু আসল কিওয়ার্ডটিকে অবশ্যই capital letter  দিয়ে শুরু করতে হবে;

৭.  টাইটেলের মধ্যে নাম্বার ব্যবহার করে টাইটেলকে eye catchy করা ভালো। যেমনঃ Best 101 SEO tips and tricks. এতে করে ভিজিটর বেশি এর নজরে পড়া যায় এবং সাইটি ভিজিট করে;

৮. টাইটেলের মধ্যে বছর (Year) ব্যবহার করা ভালো এবং প্রতি ২ মাস অথবা Yearly যেকোনো সময় বছর up to date করা যায়। যেমনঃ Best 101 SEO tips and tricks 2019;

৯. টাইটেলকে Eye catchy করতে Power word  ব্যবহার করা ভালো। পাওয়ার ওয়ার্ড মানে Awesome, Advance, Step ইত্যাদি। যেমনঃ Awesome 101 SEO tips and tricks 2019;

১০. টাইটেল এরপর ব্র্যান্ড নাম দিতে হবে। এবং Separator হিসেবে ড্যাস অথবা পাইপ ব্যবহার করা ভালো। যেমনঃ Best 101 SEO tips and tricks | SEO School BD.

১১. কিন্তু টাইটেলের ক্যারেক্টার ৫৫ এর বেশি হলে ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করা দরকার নেই। এক্ষেত্রে ইলিপ্সিস (Ellipsis) হবার সম্ভাবনা থাকে;

১২. টাইটেল সবসমায়ই ইঊনিক হতে হবে। এরমানে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিটি আলাদা আলাদা পেজের টাইটেল আলাদা আলাদা হবে।

ইউআরএল (URL)/ পারমালিংক (Permalink)/ স্লাগ (Slug):

অন-পেজ এসইও
URL/Permalink/Slug

ইউআরএল এর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার সেগুলো হলো-

১. ইউআরএল অবশ্যই ছোট হতে হবে;

২. ইউআরএল এর মধ্যে অবশ্যই কিওয়ার্ড রাখতে হবে;

৩. ইউআরএল এর মধ্যে কখনো নাম্বার ব্যবহার করা যাবে না;

৪. ইউআরএলকে কখনো বদলানো যাবে না;

৫. ইউআরএল এর ভেতর কখনো তারিখ ব্যবহার করা ভালো না। তবে নিউজ পোর্টাল সাইটগুলোতে তারিখ ব্যবহার করা যায়;

৬. ইউআরএল এর মধ্যে যত কম স্লাশ (/) ব্যবহার করা যায় ততই ভালো। স্লাশ অতিরিক্ত ব্যবহার করলে গুগলের ইনডেক্স করতে কিছুটা সমস্যা হয়;

৭. ইউআরএল এর লেটার গুলো সবসময় ছোট হাতের দিতে হবে;

৮. ইউআরএল এর মধ্যে সেপারেটর হিসেবে সবসময় ড্যাস বসবে। কখনো আন্ডারস্কোর অথবা স্পেস ব্যবহার করা যাবে না।

মেটা ট্যাগ (Meta Tag):

অন-পেজ এসইও
Meta Tags

মেটা ট্যাগ তেমন একটা গুরুত্ত না রাখলেও ব্যবহার করা ভালো। এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখা ভালো সেগুলো হলো-

১. মেটা ডেসক্রিপশন সবসময় ১৫০-১৬০ শব্দের এর মধ্যে রাখতে হবে। এর বেশি হলে এক্ষেত্রে ইলিপ্সিস (Ellipsis) হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে কিছু কিছু সময় আপনি যেই মেটা ডেসক্রিপশন ব্যবহার করবেন গুগল ওই ডেসক্রিপশনটি না দেখিয়ে আপনার কন্টেন্ট এর কিছু অংশ মেটা ডেসক্রিপশন হিসেবে দেখিয়ে দেয়। এই ক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই;

২. মেটা ডেসক্রিপশনে Synonymous অথবা এলএসআই ভার্সন (LSI; “Latent semantic indexing”) ব্যবহার করতে হবে;

৩. মেটা ডেসক্রিপশন সবসমায়ই ইঊনিক হতে হবে। এরমানে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিটি আলাদা আলাদা পেজের মেটা ডেসক্রিপশন আলাদা আলাদা হবে।

৪. মেটা ডেসক্রিপশনে তারিখ ব্যবহার করা ভালো প্র্যাকটিস না;

৫. মেটা ডেসক্রিপশন যেকোন সময়ই বদলানো যায়।

হেডিং ট্যাগ (Heading Tag):

Heading Tags

হেডিং ট্যাগ অন-পেজের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্তপূর্ণ একটি বিষয়।  হেডিং ট্যাগের বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো-

১. হেডিং ট্যাগ টোটাল ৬ টি। H1, H2,H3, H4, H5 এবং H6;

২. H1 ট্যাগটি প্রতিটি আলাদা আলাদা পেজ এ ১ বার ব্যবহার করা বাধ্যতামুলক। এবং H1 ট্যাগ একটি পেজে একবারই ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে চেস্টা করতে হবে যে পেজের যেই টাইটেলটি আছে সেই টাইটেলটিকে H1 ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা;

৩. H2 ট্যাগ প্রতিটি পেজে একের বেশি ব্যবহার করা যায়;

একটি পেজের ভেতর কিভাবে খুব সহজেই H1- H6 ট্যাগগুলোকে ব্যবহার করা যায় তা নিচে একটি উদাহরনের মাধ্যমে দেখানো হলোঃ

What is SEO ——– (H1)

Types of SEO ——- (H2)

  • Organic SEO
  • Paid SEO

Organic SEO (H3)

  • On- page SEO
  • Off-page SEO

Paid SEO (H3)

On- page SEO (H4)

Off- page SEO(H4)

Importance of SEO (H2)

এখানে What is SEO এর নিচে আরো একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করবো; Importance of SEO। সেক্ষেত্রে Importance of SEO হচ্ছে H2 ট্যাগ। অতএব H2 ট্যাগ আমরা একটি পেজে একের অধিক ব্যবহার করতে পারবো।

এই ব্লগটিতে আমি অনপেজ এসইও এর প্রায় সবটুকুই কাভার দেয়ার চেস্টা করেছি। এরপরও কারো কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। যথাসম্ভব উত্তর দেয়ার চেস্টা করবো।

5 thoughts on “অন-পেজ এসইও এর খুটিনাটি”

  1. অন-পেজ SEO ওর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখানে জানতে পারলাম।

    ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *